বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে রায়ান কুক সফল না-কি ব্যর্থ?

ক্রিকেট যারা বুঝেন তাদের অবশ্য জানা কথা শুধু ব্যাটিং ও বোলিং দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না৷ ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিল্ডিং। প্রচলিত আছে, ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। যে কারণে ব্যাটিং, বোলিং কোচ ও প্রধান কোচের পাশাপাশি প্রতিটি দলেই ফিল্ডিং কোচের একটা পদ রয়েছে৷

বিশ্বের সেরা ক্রিকেট দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় ক্রিকেটারদের ফিটনেস ফিট থকাার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে তারা কতটা দক্ষতার পরিচয় দেয়।

বাংলাদেশের বর্তমান ফিল্ডিং কোচের পদে রয়েছেন রায়ান কুক। যদিও নিয়োগ দেওয়ার সময় বিসিবি জামিয়েছিল তিনি ফিল্ডিং পরামর্শক পদে থাকবেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় তিনি নিয়োগ পান।

রায়ান কুকের কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক আঙিনায় কাজ করার তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না বাংলাদেশ দলে নিয়োগ পাওয়ার আগে। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ছিলেন কেপটাউনে গ্যারি কারস্টেন ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কোচ ও পারফরম্যান্স ডিরেক্টর।

এছাড়া বিগ ব্যাশের দল হোবার্ট হারিকেন্সের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন কুক। সহকারী কোচও ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। তিনি সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার জিমি কুকের সন্তান ও আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার স্টিভেন কুকের বড় ভাই। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার ডি ককের অন্যতম মেন্টরও তিনি।

রায়ান কুক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে দৈনিক ৫০০ ডলার পারিশ্রমিক নেন। মাসে ১৫ হাজার ডলার পান তিনি। মাসে বাংলাদেশি টাকার প্রায় ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা তিনি পেয়ে থাকেন বিসিবি থেকে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় দলের ফিল্ডিংয়ের কতটা উন্নতি হলো সেটা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়৷

২০১৮ সালে রায়ান কুকের নিয়োগের পর বাংলাদেশ খেলেছে ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টুয়ান্টি ম্যাচও খেলেছে বেশ কিছু।

কিন্তু বিশ্বকাপসহ প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশের ফিল্ডারদের বিশ্রী অবস্থা। ক্যাচ ফেলে দেওয়া যেন বাংলাদেশের ফিল্ডারদের নিয়মিত রুটিন। প্রতিম্যাচে ফিল্ডিং দুর্বলতার কারণে ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে কোচ হিসেবে রায়ান কুকও এর দায় এড়াতে পারেন না।

২০১৪ সালের পর থেকে ১০১৭ সাল পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের চমৎকার ফিল্ডিং দেখা গেছে মাঠে। কিন্তু ধীরেধীরে ছন্দপতন ঘটতে থাকে তাদের।

সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ এবং শ্রীলঙ্কা সিরিজে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের অসহায়ত্ব চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত ক্যাচ ধরতে না পারার পাশাপাশি হতচ্ছাড়া অবস্থা দলের।

রায়ান কুকের আগে বাংলাদেশের স্থায়ী ফিল্ডিং কোচ ছিলেন রিচার্ড হ্যালসল। ২০১৪ সালে আগস্টে যখন হ্যালসলকে আনা হয়েছিল, তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কোচিং স্টাফে সবচেয়ে হাই প্রোফাইল কোচ। পরে তাকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী কোচ করা হয়। কিন্তু নানা বিতর্কে তাকে বিদায় জানায় বিসিবি।

কিন্তু এখন কথা হলো রায়ান কুকের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সে অনুপাতে সার্ভিস কি আদৌ পাচ্ছে বাংলাদেশ? যদি এভাবে বাংলাদেশ হতচ্ছাড়া ফিল্ডিং প্রদর্শন চলতে থাকে তাহলে রায়ান কুকও তার দায় এড়াতে পারেন না।

তানবীর রহমান
আসসালামু আলাইকুম, আমি তানবীর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ক্রিকেটসহ ক্রীড়া জগত এবং বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি৷

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles