ক্রিকেটার শুভর মৃত্যুতে বিশ্বকাপজয়ী নাবিলের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া!

ক্রিকেটার শুভর মৃত্যুতে বিশ্বকাপজয়ী নাবিলের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া!

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার শাহরিয়ার কবির শুভ। দীর্ঘ এক মাস জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি।

ক্রিকেটার শুভর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রিকেটাঙ্গণে। ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ক্রিকেটাঙ্গনে সতীর্থ, বড় ভাই, ছোট ভাইসহ অনেকেই। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই দলের একজন সদস্য ছিলেন প্রান্তিক নওরোজ নাবিল।

শুভর মৃত্যুর খবর শুনে আবেগে নিজের মনের ভেতরের কষ্টগুলো ধরে রাখতে পারেন নি। তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে অনেক অজানা কথা। শুভর সাথে কাটানো বিকেএসপির মুহূর্তগুলো স্মরণ করে নাবিলের স্ট্যাটাসটি ক্রিকডাগআউট পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো-

-“ভাই, আব্বু টাকা পাঁঠাবে একটা বিকাশ নাম্বার লাগতো!
-আরে আমারটা দিয়ে দে, আমি তুলে দিবোনে।”

-“ভাই কালকে মঙ্গলবার, ভোরে সেন্ট্রাল এ্যাসেমব্লি আছে। সাদা গেন্জিতো নাই আমার কাছে। কিছু একটা করো না ভাই।
-আমার কাছ দিয়ে নিয়া যাইস একটা।”

“কি রে নাবিল তুই ছেঁড়া গ্লাপ্স পড়তেছোস ক্যান?
-ছিঁড়া গেছে ভাই। আপাতত পকেটে টাকা নাই।
-তো আমারে বলবি না? রুম-এ আসিস, আমার কাছে এক্সট্রা এক জোড়া আছে নিয়ে যাইস।”

ভাই আমার যেদিন কিছুই ছিল না সেদিনগুলাতে প্রত্যেকটা প্রয়োজনে তোমারে আমি পাশে পাইছি। ভাই আমার কাছে আজকে অনেক গ্লাপ্স আছে, এত আছে যে আমি নিজেও গুনে শেষ করতে পারবো না।তুমিতো এক জোড়াও নিলা না! সারা জীবন দিয়াই গেলা, নিলা না কিছুই।

তোমার যখন ব্যাট ভেঙে গেছিলো, আমি আমার রেকর্ড গড়া ব্যাটটাই তোমারে দিয়ে দিছিলাম। তুমি যে আমার কলিজার কোন জায়গায় ছিলা সেটা কি জানতা না তুমি? বুঝতা না? কেনো আমারে ছাইরা গেলা ভাই?

আমি কষ্ট পাবো বলে সিনিয়রদের মাইরের হাত দিয়া কতোদিন যে বাঁচাইছো তুমি তার হিসাব নাই। তুমি কি আমারে এই কান্নায় ভাসাবা বইলাই তখন আমার কান্না সহ্য করতে পারতা না?

“উত্তর দেও ভাই, উত্তর দেও!”

ভাই তুমি কি আবার খুলনায় গেলে আমার বাসায় যাবা? আমার মায়ের হাতের রান্না না অনেক সুন্দর? সেই দিন তো আম্মুরে বইলা আসছিলা, “আন্টি আবার একদিন আসবো।” কই ভাই তুমিতো আর আসলা না! তুমি যদি আর না-ই আসবা তাইলে মিথ্যা কেনো বলছিলা?

গেছিলাম হসপিটালে তোমারে দেখতে। তুমি তার আগে টানা ৪৮ ঘন্টা ঘুমাইছিলা। ডাক্তাররে বললাম, ভাইরে একটু দেখবো। ডাক্তার বলল, “তোমার ভাই আরো ৭২ ঘন্টা ঘুমাবে।” ভাই ৭২ ঘন্টাতো কখন পার হয়ে গেছে, একটু উঠো না ভাই। তুমি সত্যিই আর উঠবা না ভাই? তুমি এত রাগ আমার সাথে করতে পারলা ভাই? জীবনে তো তোমার ছোট ভাইরে তুমি ফিরায়ে দেও নায়, আজকেই ফিরায়ে দিলা?

সবাই তোমার অনেক ছবি দিতেছে ভাই। আমি দিলাম না ভাই। আমি চাইনা আমার কারনে তোমার আত্না কোনো কষ্ট পাক। আমি আবার রেকর্ড করবো, তুমিতো আর আসবা না ব্যাট নিতে। ঠিক করলা না কাজটা তুমি। জীবনেতো কিছু করার সুযোগ দিলা না, খালি কইরাই গেছো। কি ভাবছিলা তুমি আমার মন খারাপেই শুধু টেনশন নিস না বইলা পার পেয়ে যাবা? আল্লারে সব বইলা দিছি ভাই, টেনশন কইরো না। তুমি যেইভাবে আমারে কোনোদিন খালি হাতে ফিরাও নাই, আল্লাহও তোমারে খালি হাতে ফিরাবে না।”

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বসুন্ধরা এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার শিকার হন শুভ। তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিলেন। প্রথমে শুভকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন এই ক্রিকেটার।

তানবীর রহমান
আসসালামু আলাইকুম, আমি তানবীর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ক্রিকেটসহ ক্রীড়া জগত এবং বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি৷

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles