স্বপ্ন পূরণ!

দ্রুত বাসায় ফিরতে হবে। আজ কোথাও সময় নষ্ট করা যাবে না। কোচিং থেকে যত দ্রুত সম্ভব ফিরতে হবে বাসায়। ফিরতে হবে দুপুরের আগেই। বন্ধুর সংখ্যা কম হওয়াতে নিজেকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। ওদের আড্ডা থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসাটাও একটা চ্যালেঞ্জ!

মাথায় শুধু ঘুরছে আজ জিতবে। আর আজ জিতে গেলেই ফাইনালে। এশিয়া কাপের ফাইনাল। ব্যাপারটা সবাই জানে। সবার মধ্যেই কেমন যেন একটা চাপা উত্তেজনা। কেউ প্রকাশ করছে না। অলিতে গলিতে একই আলোচনা। কাকে খেলালে জিতবে দল। আর কাকে বাদ দিতে হবে। মাথার মধ্যে আর কোন কিছুই ঢুকছে না। সবার আলোচনা শুনতে শুনতে হেটে হেটে বাসায় যাচ্ছি। ও সব বিষয়ে কোন চিন্তা নেই। যে খেলে খেলুক। যেই মাঠে নামবে তাকেই তো সাপোর্ট দিতে হবে। নিজেদের দলে আবার ভালো-খারাপ প্লেয়ার কি?!

মনে মনে নিজের সাথেই হাজার হাজার বাক্য বিনিময় চলছে। রাস্তায় হাটার সময় কারো সাথে কথা বলা নিষেধ। বাবার করে দেয়া নিয়ম। হঠাৎ এক পথচারী জিজ্ঞেস করে বসল, ভাই আজকে জিতবে নাকি? এক মুহূর্তের মধ্যে মাথায় খেলে যাচ্ছে লক্ষ্য লক্ষ্য চিন্তা। বাবা তো বলেনি কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দেয়ার দরকার নেই। যুক্তিতে কাটা পড়ে যাচ্ছে। প্রশ্নের উত্তরটা দিতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু এই অচেনা লোকটি কেন আমাকেই জিজ্ঞাসা করল? উনি কিভাবে বুঝে গেল আমি আজকের খেলা নিয়েই ভাবছি? থাক সে সব। উত্তর দেয়ার দরকার।

  • আগে বোলিং করলে জিতব, উত্তর দিলাম।

উত্তরটা দিয়েই মুখে হাসি চলে আসল। মনটা ভালো হয়ে গেল। খেলা শুরু হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি গোসল সেরে নিতে হবে। কিন্তু কিসের কি!? টেনশনে যেন শরীর নড়ছে না। ওদের দলে সাংগাকারা, মাহেলা, দিলশান আছে। কে ওদের উইকেট পাবে? টসে কে জিতবে? যদি আগে ব্যাটিং করতে হয় তাহলে কি হবে? আর আগে বোলিং করলে? ভাবতে ভাবতে টস হয়ে গেল। বাংলাদেশ আগে বোলিং করবে। ভালোই হল। নিজের পরিকল্পনার সাথে মিলে যাচ্ছে। টেনশনটা একটু কমল।

২০ মার্চের দুপুর ২ টা। খেলা শুরু হল। নাজমুল হোসেন একাই তুলে নিলেন সাংগা, মাহেলা, দিলশানকে। এটা কি হল? কেন করলাম এত টেনশন? নাজমুলকে নিয়ে তো একবার ও ভাবিনি।

পাওয়ার প্লে শেষ হলো। ১০ ওভারে ৩৩ রান ৩ উইকেট। কাপুদেগেরা, থারাংগা আর থিরিমানে মিলে ২০০ পার করে দিলেন। শেষ দিকে মালিংগা আর সেনানায়েকে ২৩২ পর্যন্ত টেনে নিলেন। ৪৯.৫ ওভারে অল আউট শ্রীলংকা। তবে কি আজ হবে?

হানা দিল বৃষ্টি। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। ওভার কমে যাবে। তাহলে রান কত কমাবে? আবার নতুন টেনশন শুরু হল। শেষ পর্যন্ত খেলা কি শুরু হবে? ওভার কমে যাক। খেলাটা অন্তত হোক। অবশেষে আশার আলো। ৪০ ওভারে করতে হবে ২১২ রান!!! এ কি!?! এ কেমন নিয়ম? আমরা কি ১০ ওভারে মাত্র ২০ রান করতাম? মনে মনে রাগ অভিমান ক্ষোভ জন্ম নিল। কি আর করা!

শুরু হল ব্যাটিং। নাজিমুদ্দিন, জহুরুল আর মুশফিক দ্রুত ফিরলেন! আচ্ছা? ওরা তামিমের মত খেলতে পারে না? এভাবে খেললে হয়? অভিমান বেড়ে যায়। সাকিব এসে তামিমের সাথে ইনিংস গড়তে থাকলেন। ১১৬ রানে তামিম ফিরলেন ৫৯ করে। ১৩৫ রানে ফিরলেন সাকিব। করলেন ৫৬ রান। মাথায় হাত সবার। বাকি রান কে করবেন? নাসির-মাহমুদুল্লাহ এগুতে থাকলেন তাদের মত। চার মারলেও টেনশন। আরে? কে মারতে বলে? টিকে থাকুক। আবার রান ও লাগবে? কিন্তু আউট হয়ে গেলে কি হবে?

আউট তারা হননি। জিতে যায় বাংলাদেশ! স্বপ্নের ফাইনালে চলে গেল বাংলাদেশ। রাতের আকাশটা এত সুন্দর লাগছে কেন? বাতাসটা এত মিষ্টি কেন? বাংলাদেশ ক্রিকেট এত শান্তির কেন?

লক্ষ্য কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর স্বপ্ন একদিন বিশ্বজয় করবে বাংলাদেশ। সেদিনের সেই ছোট ছেলেরা বড় হয়ে যায়। জীবন পালটে যায় কিন্তু সেই স্বপ্নটা পালটাতে দেয় না তারা। অসীম ধৈর্য্য তাদের।

সকল ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগের প্রতি রইল সম্মান। আপনাদের সাথে নিয়েই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ ক্রিকেট। পূরণ হোক আপনাদের স্বপ্ন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles