ভারতীয় ক্রিকেটের তিন কিংবদন্তী!

যারিণ আক্তার
ক্রিকেট সারাবিশ্বে একটি জনপ্রিয় খেলা। ভারতে ক্রিকেটকে আলাদা একটি ধর্ম মনে করা হয়। ক্রিকেটকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে রয়েছে ক্রিকেটাদের পরিশ্রম, পারফরম্যান্স। ক্রিকেটাররা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটে রেখে যান অসংখ্য রেকর্ড। ক্রিকেটের মাধ্যমে নিজেদের দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন এবং দেশের হয়ে এনে দেন অনেক অর্জন। ক্রিকেট ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তী ক্রিকেটার যাদের অবদান কোনোদিন ভুলবে না ক্রিকেট বিশ্ব। প্রতিটি দেশেই রয়েছে ক্রিকেটের কিংবদন্তী যারা খেলেছেন দেশের স্বার্থে। ভারতীয় ক্রিকেটে রয়েছে অনেক কিংবদন্তী। তারা ভারতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। আসুন জেনে নেই ভারতীয় তিনজন কিংবদন্তী ক্রিকেটার সম্পর্কে-

১. কপিল দেব: ভারতীয় ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তী ক্রিকেটার কপিল দেব যার নেতৃত্বেই উঠে ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি। তিনি ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন, অবসরের পর ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে ছিলেন। বর্তমানে তিনি একজন ধারাভাষ্যকার। তিনি বইও লিখেছেন। ১৯৮৫ প্রকাশ পায় তাঁর লেখা, “বাই গডস ডিক্রি”, ১৯৮৭ সালে “ক্রিকেট মাই স্টাইল” এবং ২০০৪ সালে “স্ট্রেট ফ্রম দ্য হার্ট” তাঁর তিন নম্বর আত্মজীবনী হিসাবে প্রকাশ পেয়েছিল। ১ অক্টোবর ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ওডিআই এবং ১৬ অক্টোবর ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষেক হয় তাঁর। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ৪০০ টির বেশি উইকেট নিয়েছেন এবং ৫,০০০ রানেরও বেশি রান করেছেন টেস্ট ম্যাচে। ভারতের হয়ে তিনি খেলেছেন ১৩১ টি টেস্ট ম্যাচ। ৮ টি শতক এবং ২৭ টি অর্ধশতক হাকিয়ে রান করেছেন ৫,২৪৮ এবং উইকেট নিয়েছেন ৪৩৪টি। আন্তর্জাতিক ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন ২২৫টি এবং করেছেন ৩,৭৮৩ রান। উইকেট আছে ২৫৩টি। তিনি ১৯৯৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের সময় সর্বাধিক উইকেট শিকারের রেকর্ড ছিলো তাঁর। ১৯৮৩ সালে উইজডেন বর্ষ সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন কপিল দেব। ২০০২ সালে উইজডেন তাকে শতাব্দীর সেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত করে এবং ২০১০ সালের ১১ই মার্চ, আইসিসি ক্রিকেট “হল অফ ফেমে” অন্তর্ভুক্ত করে তাকে৷

২. শচীন টেন্ডুলকার: ভারতীয়দের কাছে ক্রিকেট একটি ধর্ম আর শচীন সেই ধর্মের দেবদা।১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। করাচী টেস্টে মাত্র ১৬ বছর ২২৩ দিন বয়সে তাঁর আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষেক হয়। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চমানের ব্যাটম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চমানের ব্যাটম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। সব ধরনের ক্রিকেট খেলায় প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মোট ৫০,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। আন্তর্জাতিক টেস্টে খেলেছেন ২০০ ম্যাচ করেছেন ১৫,৯২১ রান। ৬৮ টি অর্ধশতক এবং ৫১ টি শতক রয়েছে টেস্ট ক্যারিয়ারে। একদিনের আন্তর্জাতিকে খেলেছেন ৪৬৩টি ম্যাচ। আছে ৪৯ শতক এবং ৬৮ অর্ধশতকের সাহায্যে করা ১৮,৪২৬ রান। ২০১২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর শচীন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০১৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুম্বাই শহরের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২০০তম টেস্ট ম্যাচ জয়লাভ করে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

৩. সৌরভ গাঙ্গুলি: কলকাতার ছেলে সৌরভ। সবার কাছে তিনি দাদা আবার তাকে প্রিন্স অফ কলকাতাও বলা হয়। তিনি বর্তমানে বিসিসিআই-এর সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তার দাদার হাত ধরে ক্রিকেটে প্রবেশ তার। ১৯৮৯ সালে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাঁর। ১১ই জানুয়ারি ১৯৯২ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই এবং ২০ জুন ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষেক হয় তাঁর। ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারত তাঁর অধিনায়কত্বেই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলো। তাঁর অধিনায়কত্বে ভারত খেলেছে ৪৯ টি টেস্ট ম্যাচ এবং জয় পেয়েছে ২১ টিতে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ১৪৬ টি ম্যাচে এবং জয় পেয়েছিলেন ৭৬ টি ম্যাচে। সৌরভ গাঙ্গুলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ সেরা পুরস্কারে ভূষিত হন মোট ৩১ বার। তিনি আন্তর্জাতিক টেস্টে খেলেছেন ১১৩টি ম্যাচ এবং করেছেন ৭,২১২ রান। এর মধ্যে শতক আছে ১৬ টি এবং অর্ধশতক আছে ৩৫টি। আন্তর্জাতিক ওডিআইয়ে ৩১১ ম্যাচে ১১,৩৬৩ রান করেছেন। শতক আছে ২২ টি এবং অর্ধশতক আছে ৭২টি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles