শুভ জন্মদিন মাস্টার ব্লাস্টার!

যারিণ আক্তার

শচীন রমেশ টেন্ডুলকার! ভারতীয়দের কাছে ক্রিকেট একটি ধর্ম আর শচীন সেই ধর্মের দেবদা। শুধু ভারত না ক্রিকেট বিশ্বের সব দেশের হাজারো তরুণদের অনুপ্রেরণা তিনি। তেন্ডলয়া ক্রিকেটকে এমন কিছু দিয়েছেন যা থেকে বাকিরা অনুপ্রাণিত হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি তার ক্যারিয়ারে করেছেন অনেক রেকর্ড, ব্যাটিং জাদুতে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের।

১৯৭৩ সালের ২৪শে এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। শচীনের বাবা রমের টেন্ডুলকার শচীনের নাম রেখেছিলেন ভারতীয় বিখ্যাত সুরকার শচীন দেববর্মণের নামানুসারে।

ছোট বেলা থেকে শচীন টেনিস খেলার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। টেনিসে তার আদর্শ ছিলেন জন ম্যাকেনরো। কিন্তু তার দাদা অজিত চাইতেন তাকে ক্রিকেটার বানাবে। ১৯৮৪ সালে তার দাদা তাকে ক্রিকেট কোচ রামকান্ত আচেরেকরের কাছে নিয়ে যান এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার ক্রিকেট যাত্রার। কোচ রামকান্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বিভিন্ন লীগ খেলেছেন। তারপর ১৯৮৭ সালে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। করাচী টেস্টে মাত্র ১৬ বছর ২২৩ দিন বয়সে তাঁর আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষেক হয়।

চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক শচীন তেন্ডুলকরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বিভিন্ন তথ্য এবং রেকর্ড সমূহঃ

১. ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চমানের ব্যাটম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।

২. ভারতের হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্রিকেটে অভিষেক এবং ভারতের হয়ে ২৪ বছর ক্রিকেট খেলেন তিনি।

৩. ২০১২ সালে ১৬ই মার্চ ২০১২ এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমে শততম শতরান করে বিশ্ব রেকর্ড করেন। ক্রিকেট বিশ্বে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই রেকর্ড করতে পারেন।

৪. সব ধরনের ক্রিকেট খেলায় প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মোট ৫০,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

৫. ১৯৯৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বারের মতো ওপেন করেন এবং এই ম্যাচে করেছিলেন ৪৯ বলে ৮২ রান।

৬. ১৯৯৪ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম শতরান করেন।

৭. ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে তাঁর বাবার মৃত্যু হলে শচীন টুর্নামেন্ট ছেড়ে বাবার সৎকারের জন্য দেশে ফিরে যান। শ্রাদ্ধাদির পর তিনি আবারো টুর্নামেন্টে ফিরেন এবং কেনিয়ার বিপক্ষে ১৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

৮. ২০১৩ সালে উইজডেনের সার্ধ্বশতবার্ষিকী উপলক্ষে সর্বকালের সেরা বিশ্ব টেস্ট একাদশের দলে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে তার স্থান হয়।

৯. ২০০২ সালে আগস্ট মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ৩০তম টেস্ট শতক করে ডোনাল্ড ব্র‍্যাডম্যানের রেকর্ড ভেঙে দেন।

১০. ২০০৫ সালে ১০ই ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ তম টেস্ট সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন এবং ২০০৬ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের ৪০তম শতরান পূরণ করেন।

১১. ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭৮ রানের ইনিংস খেলে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহক হন মাস্টার ব্লাস্টার।

১২. ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের প্রথম দ্বি-শতরান করেন।

১৩. ২০১১ সালের ৮ই নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নেমে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ১৫,০০০ রানের বিশ্ব রেকর্ড করেন।

১৪. অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তেন্ডলয়ার টেস্ট সেঞ্চুরি আছে ১১টি এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি আছে ৯টি।

১৫. ব্র্যাডম্যানের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টেস্ট ক্রিকেটার এবং ভিভ রিচার্ডসের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা একদিনের ক্রিকেটার বলে ধরা হয় লিটল মাস্টারকে।

১৬. তিনি ১৯৯৭ – ১৯৯৮ সালের জন্য ভারতের খেলাধুলার সর্বোচ্চ পুরস্কার রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার এবং ১৯৯৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার পদ্মভূষণ প্রদান করা হয়। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে আইসিসির পক্ষ থেকে শচীনকে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি প্রদান করে। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন।শচীন প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড়, যাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী মর্যাদাসূচক ক্যাপ্টেন পদ প্রদান করে।

শচীন টেন্ডুলকার ২০১২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালের ১০ই অক্টোবর শচীন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ খেলেন। ২০০তম টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। এটিই ছিলো তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles