মিতু থেকে মুশফিক হয়ে ওঠা ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’র জন্মদিনে শুভেচ্ছা

বয়স যখন ১৬, তখন তাকে শিশু’ই বলা যায়।

কারণ ১৮ বছরের নিচে যাদের অবস্থান তাদের শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সেই ছোট্ট শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে খুব বেশিদিন হয়নি, মাত্র ১৬ বছর। তখনই নেমে পড়েন বাইশ গজের সবুজ ক্যানভাসে বড়দের খেলায়।

সেদিনের ষোলো বছরের সেই ছোট্ট শিশু আজকের আমাদের মিস্টার ডিফেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম।

মুশফিকুর রহিম জানতেন, বুঝতেন, বড়দের মতো খেলতে না পারলে এই মাটিতে কখনোই স্থায়ী হতে পারবেন না।

তাকে শক্তিতে, সামর্থ্যে এবং সক্ষমতায় টক্কর দিতে হবে সমস্ত নাক উঁচুওয়ালাদের সাথে, অন্যথায় ছেড়ে দিতে হবে এই খেলা। মুশি আকাশ সমান সাহস নিয়ে নেমে পড়েন তার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।

সম্পূর্ণ অচেনা কন্ডিশন যেখানে, সেখানে সাপের মতো ফণা তোলা সুইং! বুলেটের গতিতে ছুটে আসা প্রতিটা বল! কখনো একেকটা ভয়ংকর বাউন্সার!

সবই যে মোকাবেলা করতে হবে! এসবের কিছুতেই বিন্দুমাত্র ভয় পাননি ষোলো বছরের শিশু মুশফিক। কারণ যেখানে জিততে এসেছিলেন, সেখানে তার ভয়ের কোনো প্রশ্নই উঠেনা।

সেই থেকেই শুরু তার পথচলা, বলা চলে সেই সময়টায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা আবিষ্কার মুশফিকুর রহিম।

অনুশীলনে সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরানো ছেলেটাও মুশি। একটা সময় এসে দলে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করেন। গড়নে ছোট হলেও বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
দাঁতে দাঁত চেপে স্ট্যাম্পের সামনেটায় লড়ে যান মুশি।

মুশির একেকটা কাভার ড্রাইভ মুগ্ধস্বরে চেঁচিয়ে উঠতে বাধ্য করে। মুশির প্রতিটা শট যেন বাংলার জয়ের আশা একটু একটু বাড়িয়ে দেয়।

নিশ্চিত হারতে বসা খেলাকেও অসাধারণ দক্ষতায় জয়ে পরিণত করেছেন বহুবার। দেশের বহু স্বরণীয় জয়’ই এসেছে তার হাত ধরে।

মুশফিকুর রহিমের এই পথচলা কখনোই সহজ ছিলো না, উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে শিশুতোষ ভুলের কারণে হতে হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ আবার কখনো নেতৃত্ব নিয়ে হতে হয়েছে বিতর্কিত!

সব চাপ সামলিয়ে ষোলো বছরের সেই ছোট্ট মুশফিকুর রহিম এখন পরিণত, পরিপক্ক। তিনি শিখেছেন কীভাবে এই ময়দানের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হয়, কিভাবেই বা এই ময়দানের লড়াইয়ে জিততে হয়, জেতাতে হয়।

সবকিছু খুব ভালোভাবেই দেড় দশকের ক্যারিয়ারের মধ্যে রপ্ত করেছেন মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি মুশফিকুর রহিমের নিবেদন, তার ভালোবাসা এখনো যেকোনো ভালোবাসা দিবসের গল্পের চেয়েও বেশি মনকাড়া।

১৬’তে বাংলার ক্রিকেটে যে শিশুর পথচলা শুরু, সময়ের পরিবর্তনে সে হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। আজ এই ব্যাটিং নির্ভরতার প্রতীকের জন্মদিন।

৭৪ টেস্ট, ২২৪ ওয়ানডে এবং ৮৬ টি টি-টুয়েন্টি খেলে মুশফিকুর রহিম রান করেছেন যথাক্রমে ৪৬৮৫, ৬৩৪৪ এবং ১২৮২।

শুভ জন্মদিন মুশফিকুর রহিম মিতু।

প্রিয় মুশফিকুর রহিম,
আপনার বিদায় লগ্নে আপনার রানের সংখ্যায় টেস্ট এবং ওয়ানডেতে একের পাশে চারটা শূন্য বসিয়েই বিদায় নেবেন। তেমনটাই প্রত্যাশা করি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles